১০০ টি কবিরা গুনাহ ।
কবিরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্ম সমূহকে যেগুলো নিম্নোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যায়।
- যে সকল গুনাহের ব্যপারে ইসলামি শরিয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
- যে সকল গুনাহের ব্যপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দন্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।
- যে সকল গুনাহের ব্যপারে ইসলামি শরিয়তে বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা রাগ করবেন।
- যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা , নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মন্ডলী লানত দেন
- যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে এমন কাজ করবে সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।
- কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা যে দেয়া হয়েছে।
- সে সব বিষয়কে মুনাফিকের আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- যে কাজে "দ্বিন নাই" " ঈমান নাই" ইত্যাদি বলা হয়েছে।
- অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা
- মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إن تجتنبوا كباءر ما تنهون عنه نكفو عنكم سيءا تكن ندخلكم ندخلكم مدخلا كريما অর্থ: যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গুনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারো তবে আমি তোমাদের "ছোট" গুনাহ ক্ষমা করে দেবো এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাবো। (সূরা নিসা: ৩১)
2.রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
صلوات الخمس - والجمعة إلى الجمعة - ورمضان إلى رمضان - مكفرات ما بينهن إذا اجانب الكباءر
অর্থ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমযান থেকে আরেক রমযান এত উভয়ের মাঝে সংগঠিত সমস্ত পাপ কাফফারা স্বরূপ হয় যদি কবীরাগুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
একশোটি কবিরা গুনাহ
- আল্লাহর সাথে শিরক করা।
- নামাজ পরিত্যাগ করা।
- পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া।
- অন্যায় ভাবে মানুষ হত্যা করা।
- পিতা মাতাকে অভিসম্পাদ দেয়া।
- যাদু টোনা করা।
- এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
- জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া।
- সতী সাধ্বী মুমিন নারী্য প্রতি অপবাদ।
- রোজা না রাখা।
- যাকাত আদায় না করা।
- ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ পালন না করা।
- যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা।
- প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
- অহংকার করা।
- চুগলখোরী করা।
- আত্মহত্যা করা।
- আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা।
- অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা।
- উপকার করে খোটা দেয়া।
- মাদক বা নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা।
- মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ।
- জুয়া খেলা।
- তকদির ভাগ্য অস্বীকার করা।
- অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা।
- গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া।
- পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা।
- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামে মিথ্যা বর্ণনা করা ।
- মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা।
- মিথ্যা কথা বলা।
- মিথ্যা কসম খাওয়া।
- মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা।
- জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।
- সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
- মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা।
- হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
- যার জন্যে হিলা করা হয় ।
- মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।
- মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা।
- মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
- কোন মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া।
- খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো।
- কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা।
- আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কারো নামে পশু জবেহ করা।
- ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।
- ওজনে কম দেওয়া।
- ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসন না করা।
- জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি দখল করা।
- গীবত তথা কারো অসাক্ষাতে তার দোষ চর্চা করা।
- দাঁত চিকন করা
- সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে ভ্রু চিকন করা
- মাথায় অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা পরচুলা ব্যবহার করা।
- পুরুষ-নারীর বেশ ধারণ করা।
- নারী পুরুষের বেশ ধারণ করা।
- বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।
- কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা।
- পুরুষের গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধান করা।
- পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকা সত্বেও না দেওয়া।
- মুসলিম শাসকের কাছে কৃতজ্ঞ বায়াত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।
- ডাকাতি করা।
- চুরি করা।
- সুদ লেন-দেন করা সুদ খেলা বা তাতে সাক্ষী থাকা।
- ঘুষ লেন-দেন করা।
- গনিমত বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা।
- স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয় করা।
- জুলুম-অত্যাচার করা।
- অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা।
- প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা।
- রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা।
- স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা।
- পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা।
- সাহাবীদের গালি দেওয়া।
- নামাজ রত ব্যক্তির সামনে দিয়ে গমন করা।
- মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন করা।
- ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা।
- পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কোন অপকর্ম দুষ্কৃতি করা।
- কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া।
- আল্লাহর বারে অনধিকার চর্চা করা।
- বিনা প্রয়োজনে তালাক দেওয়া।
- যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট।
- স্বামীর অবাধ্য হওয়া।
- স্ত্রী কৃত স্বামী অবদান অস্বীকার করা।
- স্বামী স্ত্রী মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
- স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা।
- বেশি বেশি অভিশাপ দেওয়া।
- বিশ্বাসঘাতকতা করা।
- অঙ্গীকার পূরণ না করা।
- আমানতের খিয়ানত করা।
- শরীরে ট্যাটু বা উল্কি করা।
- ঋণ পরিশোধ না করা।
- বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না।
- তাবিজ-কবজ রিং সুতা ইত্যাদি ঝুলানো।
- ভেজাল পণ্য বিক্রয়।
- পরীক্ষায় নকল করা।
- ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় অবিচার করা।
- আল্লাহর বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা।
- পার্থিব উদ্দেশ্যে দীনী ইলম দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা।
- কোন এলম দ্বীনের জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা
- নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা।
- আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেওয়া ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই 100 টি কাজ থেকে বিরত রেখে আমাদের চলার তৌফিক দান করুন।
যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে আমাকে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত ভুল ভ্রান্তি গুলো ক্ষমা করে দিন । আমিন
আপনাদের কোন বিষয় জানতে চাইলে কমেন্ট বক্সে লিখুন। Plz
অনেক কিছু জানতে পারলাম
ReplyDelete